শুয়ে বসে ওজন কমানো যায় কি? হ্যাঁ, যায় তো!

ফিটনেস নিয়ে ভাবতে গেলেই মাথার মধ্যে কুরকুরিয়ে কিছু প্রশ্ন ঘুরে ফিরে বেড়ায়, টম আর জেরির মত দৌড়াদৌড়ি করে। 

কিভাবে দ্রুত ফিট হওয়া যায়?
কিভাবে কত শিগগির ওজন কমিয়ে ফেলতে পারি?
কি করলে আরো আরো ক্যালরি বার্ণ হবে? 

একটা কথা মনে রাখা দরকার –

ফিট হয়ে যাওয়াটা সকল সমস্যার সমাধান না। এমন না যে এক বার ফিট হয়ে গেলেই আর কোন দিন আনফিট হবেন না। ফিটনেস অর্জন করে ধরে রাখার ব্যাপার। 

আর সেজন্য প্রয়োজন – সঠিক সময়ে সঠিক খাবার খাওয়া এবং সঠিক উপায়ে ওয়ার্ক আউট এর মাধ্যমে যথেষ্ট পরিমান ক্যালরি খরচ করা! 

আর এজন্য আপনার শরীরের ভাষা বুঝতে হবে আপনাকে। 

ক্যালরি হিসেব করে খাওয়া শরীরের ওজন বাড়ানো কমানো নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে ভালো উপায়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাধারণত ২৪০০ থেকে ৩০০০ হাজার ক্যালরি প্রয়োজন। বাংলাদেশের আবহাওয়া উষ্ণ হওয়ায় শরীরে তাপ উৎপাদনের জন্য তেমন একটা ক্যালরি ক্ষয় হয় না। আবার শহরে, বিশেষ করে ঢাকা তে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম হওয়ায় মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া এমনিতেই স্লো। ক্যালরি হিসেবের সময় সেটা মাথায় রাখা প্রয়োজন। 

আর ক্যালরি খরচের হিসেবটা খুব সহজ। ধরুন আপনি ওজন কমাতে চাচ্ছেন। আপনি কম বা মোটামুটি সক্রিয় একজন পুরুষ এবং আপনার বয়স ২৮। আপনার দৈনিক চাহিদা ২৪০০ থেকে ২৮০০ ক্যালরি। এখন আপনি যদি প্রতিদিন ১৫০০ ক্যালরি নিয়ে থাকেন (সারা দিনের সকল খাবার মিলিয়ে) তাহলে প্রতিদিন আপনার ক্যালরি ঘাটতি প্রায় ১০০০ এর বেশি। আপনি যদি স্বাভাবিক নিয়মে আপনার দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে থাকেন তাহলে প্রতিদিন এই ঘাটতি ১০০০ ক্যালরি আপনার শরীর যোগান দেবে জমানো চর্বি থেকে। কাজেই, আপনার ওজন একদিকে যেমন কমবে, তেমনি কমবে শরীরে জমা হওয়া বাজে মেদ। আর এর সাথে যদি আপনি দৈনিক ৩০ মিনিট ব্যায়াম করেন, তবে ফলাফল দেখে তব্দা খেয়ে যাবেন নিজেই। মনে রাখবেন, দৈনিক প্রচুর পানি খেতে হবে আপনাকে – কারণ, পানি ছাড়া চর্বি থেকে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি সংগ্রহ করতে পারবে না।   

আমেরিকার সরকারি হিসেব মতে বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষের দৈনিক ক্যালরি চাহিদা নিচে উল্লেখ করা হলো। আমেরিকান হিসেব আমাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে, কারণ আমেরিকানদের মত বাঙ্গালীও একটা সংকর জাতি (বিভিন্ন দেশের মানুষের বা মানব জিনের সংমিশ্রণ)। 

টেবিলঃ অনুমিত ক্যালরি চাহিদা – পুরুষ, জেন্ডার ও সক্রিয়তার ধরণ অনুযয়ী

সুস্থ, সুন্দর আর সুখী হোক, আপনার জীবন! 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *