ডায়েট করার ক্ষেত্রে না’জায়েজ ভুল গুলো

‘স্বাস্থ্য’ নয় বরং ‘সুস্বাস্থ্য’ ই সকল সুখের মূল। আর সুস্বাস্থ্য অর্জন ও ধরে রাখতে নিয়মমাফিক বা যথাযথ খাওয়া এর কোন বিকল্প নেই। অতিরিক্ত ওজনের অনেকেই ওজন কমাতে ডায়েট করে থাকেন। সমস্যা হলো, ডায়েট করতে গিয়ে বেশ কিছু ভুল করি আমরা।

সকালের নাশতা না খাওয়া

ডায়েট করতে গিয়ে অনেকেই সকালের নাশতা খাওয়া বন্ধ করে দেন। এটা কেবল ভুলই নয় বরং মারাত্মক ভুল। সকালে না খেলে অতিরিক্ত ক্ষুধার কারণে আপনি হয়ত দুপুরে অনেক বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলবেন, যা আপনার ওজন আসলে বাড়িয়ে দেবে। সকালে প্রোটিন ও ফাইবার-সমৃদ্ধ নাশতা খেলে দেখা যাবে সারা দিনে আপনার ক্ষুধা কম পাবে। পুষ্টিবিদগণের গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা সকালে পুষ্টিকর নাশতা খেয়ে দিন শুরু করেন, তাঁরা সাধারণত অনেক বেশি সুস্থ থাকেন এবং নিয়মিত হারে ওজন কমাতে সক্ষম হয়ে থাকেন। 

অসময়ে হালকা খাবার খাওয়া

আপনি হয়তো খাবার খাওয়ার সময় অনেক নিয়ম মেনে চলছেন। কিন্তু মাঝে মাঝে কাজের ফাঁকে বা আড্ডার সময় টুকটাক স্ন্যাকস খেয়ে ফেলছেন। এই অনিয়মিত স্ন্যাকস খাওয়ার কারণে আপনার ডায়েট চার্ট পুরোপুরি কাজে লাগছে না। তাই যদি ক্যালোরি কমাতে চান তাহলে অবশ্যই অনিয়মিত ও অপরিকল্পিত খাওয়া বন্ধ করুন।
ভালো হয় যদি ক্যালরি ইনটেক ও ক্যালরি বার্ন এর হিসেব রাখতে পারেন। 

অনুমিত ক্যালরি চাহিদা – পুরুষ, জেন্ডার ও সক্রিয়তার ধরণ অনুযয়ী

কম পানি পান করা

ডায়েটের সময় এই ভুলটি সবাই করে থাকে। শরীরে জমা মেদ কমাতে পানি খুবই কার্যকরী। পানি কম পান করার কারণে একদিকে যেমন আপনার পরিপাকে সমস্যা হবে, তেমনি মেটাবলিজম ধীর হয়ে যাবে। এর ফলে আপনার ওজন কমার গতি কমে যাবে। তাই প্রতিদিন প্রয়োজনমাফিক পানি পানের অভ্যাস করুন।

চিনি ও শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া

ওজন কমাতে গিয়ে কম কম খাচ্ছেন, খুব ভালো কথা। কিন্তু যা খাচ্ছেন, তার বেশির ভাগই যদি হয় শর্করা তাহলে লাভের লাভ হবে না। প্রোটিন কম খেলে একদিকে যেমন আপনার মাংশপেশী দুর্বল হয়ে যাবে, তেমনি অতিরিক্ত শর্করা জমা হয়ে থাকবে আপনার শরীরে মেদ হিসেবে। সুষম খাবার খাওয়ার কোন বিকল্প নেই আর শর্করা খাবেন ‘দিন আনে, দিন খায়’ নীতিতে। অর্থ্যাত, প্রতিদিন যতটুকু দরকার আপনার দৈনিক প্রয়োজন অনুপাতে, তার বেশি শর্করা খাবেন না। 

আর চিনি, বিশেষ করে সাদা চিনি, শরীরের জন্য ভয়ংকর খারাপ। কাজেই, চা কফি ও জুস থেকে চিনি বাদ দিয়ে দিন পুরোপুরি।  

অবাস্তব পরিকল্পনা করা

ওজন কমাতে বা ডায়েট এর ক্ষেত্রে অবাস্তব পরিকল্পনা না করে বরং ‘সম্ভব ও বাস্তব’ পরিকল্পনা করুন। বিশ বছর ধরে শরীরে যে মেদ জমিয়েছেন, এক সপ্তাহেই তাকে দেখে নিবেন ভাবলে নিশ্চিতভাবেই ব্যার্থ হবেন। ফিটনেস আসলে লাইফস্টাইল; আপনার জীবন যাপনে পরিবর্তন আনতে হবে এবং শরীরের ভাষা বুঝে খাওয়া ও ব্যায়াম চালিয়ে যেতে হবে।  

ডায়েট চলাকালীন অবস্থায় যে ভুলগুলো আমরা করি সেগুলো ওজন তো কমায়ই না উল্টো আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ ও অনেকক্ষেত্রেই ওজন বাড়ানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সুস্থ, সুন্দর আর সুখী হোক, আপনার জীবন! 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *